Sections
Newsletter
Email:
Poll: Nostalgic about Bangladesh
Nostalgic about Bangladesh ?
Featured author
Home | Features Articles | রক্ত কিংবা অশ্রু

রক্ত কিংবা অশ্রু

image

একাত্তরে তিনি রক্ত ঝরিয়েছিলেন, আজ ঝরাচ্ছেন অশ্রু। যুদ্ধ করে তিনি মুক্তি এনেছিলেন, আজ তিনি বন্দী। যে স্বাধীনতার জন্য তিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন, সেই স্বাধীনতা তাঁকে চিকিত্সার এক ব্যাগ রক্তও দিতে পারেনি। যুদ্ধজয়ী এ বীর হেরে গেলেন দারিদ্র্যের কাছে। মুক্তিযোদ্ধার সনদ তুচ্ছ হয়ে গেল এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজনের কাছে। রক্ত কিনবেন বলে চুয়াডাঙ্গার বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম রাজশাহী মেডিকেলের বারান্দায় বসে কেঁদে কেঁদে সেই সনদের দাম চাইছেন (২৩ অক্টোবর, প্রথম আলো)। এই কান্না অভিমানের। কারণ, কেউ কথা রাখেনি।


মুক্তিযোদ্ধামাত্রই গরিব নন, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের বড় অংশই যে গরিব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ দেশের গরিব মানুষই বেশি দলে দলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যুদ্ধের আগেও তারা গরিব ছিল, যুদ্ধের আগুনে সহায়সম্পদ হারিয়ে তাদের অনেকে আরও গরিব হয়েছে। অথচ দেশ নাকি এগিয়ে চলেছে, মাটির দেশে কংক্রিটের দালানের পর দালান আড়ে-বেড়ে কেবলই বাড়ছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার শরীরে দেওয়ার মতো এক ব্যাগ রক্ত মিলল না! রাষ্ট্র তাঁকে সম্মানের সনদ দিয়েছে, মানুষের মতো বাঁচার উপায় দেয়নি। তাই সনদ বিক্রি করে তিনি রক্ত কিনে বাঁচার জন্য মরিয়া হলে তাঁকে দোষ দেয় সেই সাধ্য কার?


অনেকে বলবেন, প্রতিদানের আশা করে তো কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। তা ছাড়া যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ হতদরিদ্র, সে দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই গরিব হবেন, তা স্বাভাবিক। খুবই সত্য কথা। প্রতিদানের আশা মুক্তিযোদ্ধাদের নেইও। দেশপ্রেমের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানই তাঁদের উপযুক্ত পাওনা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষুধার্ত-রুগ্ণ-অসহায় অবস্থা দেশের মাথা হেঁট করে না কি? যাঁরা সুখে আছেন, সম্পদে আছেন, আছেন ক্ষমতার কেন্দ্রে, মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্দশা কি তাঁদের বিবেককে আঘাত করে না? যদি না করে, সরকার যদি মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে না থাকে, তাহলে এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা সনদ বিক্রি করে রক্ত কিনতে চাইলে কারও কিছু বলার অধিকার থাকা উচিত নয়।

—ফারুক ওয়াসিফ

  • email Email to a friend
  • print Print version
  • Plain text Plain text
Tags
No tags for this article
Rate this article
0